অদ্বিতী ইরা

গত সাত মাস ধরে পৃথিবী জুরে চলছে এই ভাইরাসের তান্ডব, বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টায় আছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীদের জানিয়েছেন ডেক্সামথাসোন নামে সস্তা ও সহজলভ্য ওষুধটি করোনা ভাইরাসে গুরুতর আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করে তুলতে বেশ কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে স্বল্প মাত্রার স্টেরয়েড চিকিৎসার সফলতা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তাদের তথ্য অনুসারে, এই ওষুধের ব্যবহারের ফলে, ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীর মৃত্যুর তিন ভাগের এক ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব। অন্যদিকে যেসব রোগীকে অক্সিজের সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনতে পারে এই ওষুধটির ব্যবহার।

গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে যখন করোনা মহামারী হিসেবে ছরিয়ে পরে তখন যদি এই ওষুধের ব্যবহার করা যেতো তাহলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।

বিবিসি-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদরে বলা হয়, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এই গবেষণাটি চালিয়েছেন। প্রায় ২ হাজার রোগীর দেহে ডেক্সামেথাসন প্রয়োগ করা হয় পরীক্ষামূলকভাবে। এর ফলাফলে দেখা গেছে, ভেন্টিলেশনে থাকা  রোগীদের শরীরে এই ওষুধ প্রয়োগের ফলে মৃত্যু ঝুঁকি ২৮ থেকে ৪০ শতাংশ কমে আসে। অন্যদিকে যাদের অক্সিজেন দেয়া প্রয়োজন হয় তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কমে আসে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।

গবেষকরা জানান, ডেক্সামেথাসন নেওয়া রোগীদের সঙ্গে ওই ওষুধ না নেওয়া ৪ হাজার রোগীর শারীরিক অবস্থা মিলিয়ে দেখা হয়েছে। দেখা যায়, ভাইরাস সংক্রমনের ফলে রোগীর দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন দুর্বল হয়ে পরে এবং অন্যান্য শারীরিক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি বেরে যায়, তখন সেই ঝুঁকি কমিয়ে আনতে ডেক্সামেথাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের প্রধান অধ্যাপক পিটার হরবি বলেন, ‘এই একমাত্র ওষুধ, যার ব্যবহারে মৃত্যুহার কমতে দেখা গেছে।’

প্রধান গবেষক, অধ্যাপক মার্টিন ল্যানড্রে বলছেন, এই ওষুধ ব্যবহারের ফলাফলে দেখা গেছে, ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয় এমন ৮ জন রোগীর মধ্যে একজনের প্রাণ বাঁচাতে পারে ডেক্সামেথাসন। আর অক্সিজেন প্রয়োজন হয় এমন প্রতি ২০ থেকে ২৫ জন রোগীদের ক্ষেত্রে একজনের জীবন বাঁচানো যায়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের সংক্রমনের ফলে তেমন গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে না, তাদের জন্য এই ওষুধ কার্যকর নয়।

গবেষকদের মতে ডেক্সামেথাসন বেশ সহজলভ্য এবং সস্তা একটি ওষুধ। তাই যেসব দেশ করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের জন্য এই ওষুধটি বেশ উপযোগী।