গেম অফ থ্রোনস: ৭.০৩: রিভিউ – Game of Thrones Season 7 Episode 3 Breakdown

গেম অফ থ্রোনসের সপ্তম সিজনের তৃতীয় পর্বটিও এসে গেল। এই পর্বের নাম ছিল ‘কুইন’স জাস্টিস’। গত দুই পর্বে আসন্ন যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। গত পর্বের শেষে যুদ্ধ নৌপথে শুরুও হয়ে গিয়েছিল। ইউরন গ্রেজয় তার নৌজাহাজ ‘সাইলেন্স’ ও যুদ্ধবহর নিয়ে ইয়ারা ও থিওন গ্রেজয়ের নৌবহরকে রাতের আঁধারে আক্রমণ করে বসে। একেবারেই অপ্রস্তুত ইয়ারা ও তার বাহিনী দ্রুতই পরাজিত হয়। বন্দী হয় ইয়ারাসহ ইলারিয়া স্যান্ড ও তার মেয়ে টাইয়িন স্যান্ড। ইউরনের হাতে খুন হয় ওবারা ও নাইমেরিয়া স্যান্ড। এদিকে জন স্নো আর স্যার ড্যাভোস টিরিয়নের পাঠানো চিঠি পেয়ে ড্রাগনগ্লাসের সন্ধানে ড্রাগনস্টোন রওনা দিয়েছিল। এই পর্বে মূলত কিংস ল্যান্ডিং আর ড্রাগনস্টোনেই বেশিরভাগ সময় কেটেছে।

ড্রাগনস্টোন

শুরুতেই ড্রাগনস্টোন। জন স্নো আর স্যার ড্যাভোস এসে ড্রাগনস্টোনে পৌঁছেছে। তাকে নিতে সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে ছিল টিরিয়ন ল্যানিস্টার। চতুর্থ সিজনে ওবেরিন মার্টেল কিংস ল্যান্ডিংয়ে এসেছিল, তাকে নিতেও টিরিয়ন এভাবে দাঁড়িয়েছিল। ওবেরিন অবশ্য তার আগেই রাজধানীতে ঢুকে সোজা পতিতালয়ের পথ ধরেছিল। স্যার ড্যাভোস আর টিরিয়নের কথোপকথনের ব্যাপারে আগ্রহ হচ্ছিল আগে থেকেই। দ্বিতীয় সিজনে ব্ল্যাকওয়াটার বে’র যুদ্ধে যখন স্ট্যানিস ব্যারাথিয়ন রাজধানী আক্রমণ করে তখন কিংস ল্যান্ডিংয়ের নেতৃত্ব টিরিয়ন প্রায় একাই সামলেছিল। স্ট্যানিসের বাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য টিরিয়ন অভিনব উপায়ে ওয়াইল্ডফায়ারের সাহায্য নিয়েছিল। যে ওয়াইল্ডফায়ারের বিস্ফোরণে স্ট্যানিসের নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ড্যাভোসের ছেলে প্রথম ধাক্কাতেই মারা যায়, আর ড্যাভোস আহত অর্ধমৃত অবস্থায় একটা পাথরের ওপর ভাসছিল। ড্যাভোসের যদিও জানার কথা না যে টিরিয়নই ছিল মূল সেনাপতি। এখানেও দুয়েকবার ব্ল্যাকওয়াটার বে’র সেই যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠে এল। এক সময়ের প্রতিপক্ষ সময়ের ফেরে এখন একে অপরের সাহায্য চাইছে – রাজনীতিতে এই ব্যাপারটা কতই না সাধারণ।

ড্রাগনস্টোন প্রাসাদে যেতে যেতে টিরিয়ন আর জনের সংলাপগুলো বেশ ভাবায়। এই গল্পের নায়কেরা একেকজন কোথা থেকে কোথায় এসে পৌঁছেছে। নাইটস ওয়াচের এক অখ্যাতসাধারণ জারজ ‘রিক্রুট’ কীভাবে কিং ইন দ্যা নর্থ হয়ে গেছে, আর ল্যানিস্টার পরিবারের বদখত বামন সারা ওয়েস্টেরোস আর এসোস ঘুরে শেষে কিনা ডেনেরিস টারগারিয়েনের হ্যান্ড হয়ে নিজেরই পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।

Tyrion: “General rule of thumb: Stark men don’t fare well when they travel south.”

Jon: “True. But I’m not a Stark.”

এই সংলাপের পরপরই জনের মাথার ওপর দিয়ে হুঁশ করে উড়ে গেল বিকটাকার ড্রোগন। প্রথমবার জ্বলজ্যান্ত ড্রাগন দেখার ভীতি-মেশানো বিস্ময় জন আর ড্যাভোসের চোখেমুখে।

যা হোক, ড্রাগনস্টোনে পৌঁছে ডেনেরিসের দরবারে জন আর ড্যাভোস হাজির হবার পর থেকেই সবচেয়ে উপভোগ্য দৃশ্যগুলোর একটি দেখা গেল। জনকে ডাকার সময় নতিস্বীকারের প্রসঙ্গ আসলেও যদিও সরাসরি চিঠিতে সেটা উল্লেখ করেনি টিরিয়ন। প্রায় তিনশ বছর আগে এয়গন টারগারিয়েন যখন ওয়েস্টেরোস জয় করতে এসেছিল, তখন কিং ইন দ্যা নর্থ ছিল উইন্টারফেলের টরেন স্টার্ক। যতদিনে দক্ষিণের রাজ্যগুলো জয় শেষে এয়গন উত্তরপানে এল, তখন অন্যান্য রাজাদের মত যুদ্ধবিগ্রহে না গিয়ে টরেন স্টার্ক নতিস্বীকার করেছিল। বিনা রক্তপাতে পুরো নর্থ এয়গনের বশ্যতা মেনে নিয়েছিল। যুদ্ধ করলেও খুব বেশি লাভ হতো না, বরং অযথাই অজস্র নিরাপরাধ সৈন্যের প্রাণ যেতো। তাই টরেনের এই নতিস্বীকারে ইতিহাসবিদরা খুব বেশি দোষ দেখে না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই ডেনেরিস চাইলেই কিং ইন দ্যা নর্থ জন স্নো তার সামনে নতিস্বীকার করবে না। ডেনেরিসের চাইতেও বহুগুণ ভয়ঙ্কর মৃত্যুদূত ওয়েস্টেরোসের দিকে ধেয়ে আসছে। জন সেকথা খুব ভাল করেই জানে, কারণ সে নিজে নাইট কিং ও তার মৃতবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু দক্ষিণের রাণী বা সভাসদরা কেন সেটা বিশ্বাস করবে? বিশেষ করে যখন ডেনেরিস ও জন একে অপরকে একেবারেই চেনে না, তখন ডেনেরিসের যেমন এসব গালগল্প বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই, তেমনি জনেরও এই বহিরাগত ভিনদেশি রাণীর বশ্যতা স্বীকার করার কারণ নেই। এক পর্যায়ে অসহিষ্ণু হয়ে উঠল ডেনেরিস। সারাজীবন তাকে প্রাণভয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। রবার্ট ব্যারাথিয়নের ভাড়াটে খুনীরা এসোসের শহরে শহরে তাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। তারপর তার নিজেরই ভাই তাকে ডোথরাকি খাল-এর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। সেই খাল দ্রোগো তাকে প্রতিরাতে ধর্ষণ করতো। তার সাথে থাকাকালীন সময়ে সে মূলত বন্দিনীর জীবন যাপন করছিল। শুধুমাত্র নিজের বুদ্ধি, সাহস, আর ব্যক্তিত্বের জোরে সে দ্রোগোর মনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। দ্রোগো মারা যাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত তাকেও বহু উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে সাহস যুগিয়েছে তার আত্মবিশ্বাস, কোন দেবতা বা পৌরাণিক গালগল্প না। ওয়েস্টেরোসের রাণী হওয়াই যেন ছিল তার নিয়তি। ডেনেরিসের সাথে জনের রাজা হয়ে ওঠার পথের কোন মিলই নেই। স্যার ড্যাভোস জবাবে সে কথাগুলো বললো। জনের উঠে আসাও বিস্ময়কর – বাবার পরিচয় স্টার্ক হলেও সারাজীবন জারজের তকমা গায়ে নিয়েই বড় হয়েছে সে। একটাই গন্তব্য – ওয়ালে গিয়ে নাইটস ওয়াচে যোগ দেয়া। নাইটস ওয়াচে চোর, ডাকাত, ধর্ষক, অপরাধীদের অভাব নেই, তারপরেও জারজ হিসেবে সে তাদের থেকেও বড় অপরাধী। এরপর থেকে লর্ড কমান্ডার হওয়া পর্যন্ত জন শুধু একজন নাইটস ওয়াচের সৈন্য হয়েই থাকতে চেয়েছে। লর্ড কমান্ডার হবার পরেও স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ওয়াইল্ডলিংদের আশ্রয় দিয়েছে। এর জন্য তাকে মরতেও হয়েছিল। এত সবকিছুর পর আবার সেই উইন্টারফেলেই সে ফিরে এসেছে। নর্থের কোণে কোণে গিয়ে সম্ভ্রান্ত লর্ডদের কাছে আরেকদফা অপমানিত হয়েছে নিজেরই ‘ভিটেমাটি’ উদ্ধার করার জন্য। সেবারও মরতে বসেছিল। কিন্তু সবকিছুর পরও তা অদম্য চেষ্টা তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। একদিকে ডেনেরিস, যে সারাজীবন মনে-প্রাণে রাণী হতে চেয়ে হাজারও বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এখানে এসেছে। অন্যদিকে জন, যে কখনো রাজা হতে না চাইলেও পুরো বিশ্ব যেন পরিকল্পনা করে তাকে বানিয়ে দিয়েছে।

এই কথোপকথনের মধ্যে দর্শনবিদ্যার দুটি ভিন্নমুখী ধারার দুর্দান্ত উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়। ভবিতব্য, যাকে ইংরেজিতে Fate বলে থাকি, সেটা বলছে আমরা যত যাই করি না কেন আমাদের ‘কপালের লিখন, না যায় খণ্ডন’। আরেকদিকে আছে নিয়তি, যাকে ইংরেজিতে বলে Destiny, অর্থাৎ যত যাই ঘটুক আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবই। এই দুই ধারণার টানাপোড়েন গ্রীক আর রোমান আমল থেকে দর্শনের দুইটা মতবাদ হিসেবে প্রচলিত আছে। একদিকে আছে স্টয়িসিজম (Stoicism), যার অনুসারীরা (Stoics) মনে করতেন যে স্রষ্টা বা অতিপ্রাকৃতিক কোন শক্তি আমাদের ভবিতব্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। জন স্নোর জীবন-মৃত্যু-পুনর্জীবনের ঘটনাটাই ধরুন। অগ্নিদেবতার কি কোন উদ্দেশ্য আছে জনকে নিয়ে? কেন তাকে মৃত্যুর পরও আবার জীবিত করা হলো? প্রথম পর্বে বেরিক ডন্ডারিওনও হাউন্ডের প্রশ্নের জবাবে এই প্রশ্ন করেছিল, “You think I don’t ask myself that? Every hour of every day? Why am I here? What am I supposed to do? What does the Lord see in me?” হতে পারে জনের মনেও এই একই প্রশ্ন এসেছে। কেন তাকে মৃত্যুর পরেও আবার ফিরিয়ে আনা হলো? আদৌ কি কোন উদ্দেশ্য আছে কোন স্রষ্টার, নাকি এটাও উদ্দেশ্যহীন কোন বিশৃঙ্খল ঘটনা? আবার অন্যদিকে অনেকেই এমন দর্শনে একমত হন না। অন্তত ডেনেরিস হবে না নিশ্চিত। তার ধারণার মানুষও সেই গ্রিক ও রোমান সময়ে ছিল, যাদের বলা হতো এপিক্যুইরিয়ান (Epicurean)। তাদের মতে অমন ঐশ্বরিক ক্ষমতা বা স্রষ্টার কোন বিষয় নাই। মানুষ যা চায় এবং পাওয়ার চেষ্টা করে, অধ্যবসায়ে লেগে থাকে, সেটা সে অর্জন করতে পারে। তার পথে যতই বাধাবিপত্তি আসুক না কেন সে কচ্ছপের মতো দাঁত কামড়ে পড়ে থাকে, কারণ সে জানে যে তার ভবিষ্যৎ একমাত্র তার নিজেরই হাতে। ডেনেরিস এখানে যে কথাগুলো বললো তার সাথে এই মতবাদ পুরোপুরি মিলে যায়। সমস্যা হচ্ছে যে আজ অবধি কেউ হলফ করে বলতে পারবে না যে এদের একটি অন্যটির চেয়ে ভাল বা খারাপ। একেকজন মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা বা বেড়ে ওঠার সাথে সাথে এই ধারণাগুলো পাকাপোক্ত হয়ে যায়।

“People’s minds aren’t made for problems that large. White walkers, the Night King, Army of the Dead – it’s almost a relief to confront a comfortable, familiar monster like my sister.”

যাই হোক, দর্শনের ব্যাপার থেকে আবার মূল কাহিনীতে ফেরা যাক। ড্রাগনস্টোনের পরের দৃশ্যগুলোতে ডেনেরিস আর জনের মাঝের এই মতপার্থক্যকে দূর করার চেষ্টা করলো টিরিয়ন। ডেনেরিসের পক্ষে জন স্নোর কথাকে গুরুত্ব দিয়ে নেয়া একটু কষ্টকর। বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী অনেকেই তাকে গালগল্প শুনিয়ে ঠকিয়েছে। টিরিয়নের ভরসাতেই সে অন্তত জনের একটা কথা শুনলো। ড্রাগনস্টোন দ্বীপের নিচে যে ড্রাগনগ্লাসের ডুবন্ত পাহাড় আছে, সেটা খননের অনুমতি দিল। হোয়াইট ওয়াকারদের মতো ভয়ঙ্কর মৃত্যুদূতদের প্রতি সবার এই নিস্পৃহতা কিছুটা বিস্ময়কর। টিরিয়নের এই উক্তির মাঝে হয়তো এর কারণ লুকিয়ে আছে। মহাবিপদে পড়লে অনেক সময় আমরা সেটা উপেক্ষা করে খুব ছোট কোন সমস্যা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমাদের মনের ভয় সামলানোর একটা পদ্ধতি এটা। বাস্তব জগতেও এর উদাহরণ আছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার মতো বিপদ গেম অফ থ্রোনসের হোয়াইট ওয়াকারদের মতই আমাদের বিলুপ্তি ডেকে আনবে। অথচ সেই অবশ্যম্ভাবী বিপদকে মোকাবিলা করার কথা আমরা প্রায় কেউই ভাবি না। আমাদের যত দুশ্চিন্তা তার সবই দৈনন্দিন ছোটখাট সমস্যা নিয়ে।

কিংস ল্যান্ডিং

কিংস ল্যান্ডিংয়েও ঘটনার ঘনঘটা। প্রায় সব ঘটনাই সার্সেইকে ঘিরে। এখানে একটু অভিনেত্রী লিনা হিডি বিষয়ে কিছু না বললেই নয়। বছরের পর বছর সার্সেইয়ের জটিল চরিত্রকে তিনি যথেষ্ট মুনশিয়ানার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। আমার মতে তার অভিনয় প্রতিভার কারণেই টিভি শো-এর সার্সেই বইয়ের চরিত্রটির চাইতে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এই পর্বে কিংস ল্যান্ডিংয়ের প্রতিটি দৃশ্যে লিনা হিডি রাজত্বই করেছেন। তার অভিনয়ের ধরণ বরাবরই সূক্ষ্ণদাগের। গলা কাঁপিয়ে আবেগী সংলাপ না দিয়েও চৌকস অভিনয়ের উদাহরণ। চাপা রাগ বা ক্রোধ ফুটিয়ে তুলতে একটা শক্ত চোয়াল বা চেপে বসা ঠোঁটের ভঙ্গিমাই যথেষ্ট। দুঃখের বিষয়, এই একই প্রশংসা আরেক রাণীকে নিয়ে করা যাচ্ছে না। এমিলিয়া ক্লার্ক অভিনয়ে দৃশ্যতই লিনা হিডির চেয়ে অনেক দুর্বল, এবার পাশাপাশি তাদের বেশিরভাগ দৃশ্য দেখতে হচ্ছে বলে পার্থক্যটা প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। গত সিজন পর্যন্ত এমিলিয়া ক্লার্ক ডেনেরিসের চরিত্রটি করছিলেন বেশ চড়া সুরে। উচ্চকিত সংলাপ, মুখভঙ্গিতে সূক্ষ্ণতার কিছুই ছিল না। কিন্তু এই সিজনের তিনটি এপিসোডেই মনে হলো তিনি বা নির্মাতারা ঠিক করেছেন লিনা হিডির সার্সেইয়ের মতো করে ডেনেরিসকে ফুটিয়ে তুললে ভাল হবে। অভিনয়ের সেই সূক্ষ্ণ কৌশল না থাকায় মনে হচ্ছে এমিলিয়া ক্লার্ক প্রতিটি বাক্য নিস্পৃহতার সাথে উচ্চারণ করছেন। এহেন ‘ফ্ল্যাট’ অভিনয় একঘেঁয়ে লাগা স্বাভাবিক। শীতল কণ্ঠস্বরেও কীভাবে নিজের মতটাকে জোর করে চাপিয়ে দেয়া যায় সেটা এই পর্বে আবারও সার্সেই দেখালো। প্রথমেই ইউরনকে বললো যুদ্ধ জিতলে তার বিয়ের প্রস্তাব বা উপহার বিবেচনা করা হবে। ইউরনের কাছে কথাটা ভাল লাগার কথা না। কিন্তু যে রাশভারি কণ্ঠে সার্সেই বলেছে, সেটাকে টেক্কা দেয়ার সাহস তার নেই।

এর পরে কারাকক্ষে ইলারিয়া স্যান্ড আর তার মেয়ে টাইয়িন স্যান্ডের সাথে সার্সেইয়ের শীতল নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত দেখলে তার প্রতিশোধস্পৃহার ভয়ানক চেহারাটি আরেকবার চোখে পড়ে। এ যেন সেই সেপ্ট অফ বেয়লর উড়িয়ে ধুলো বানিয়ে দেয়া সার্সেই, যে বিস্ফোরণ দেখতে দেখতে অল্প অল্প চুমুকে মদ খাচ্ছিল। সার্সেইয়ের সাথে ডেনেরিসের সমান্তরাল টানার চেষ্টাও নজরে পড়েছে। শুধুমাত্র উন্মাদ রাজা এয়রিসের মেয়ে হবার কারণে নিরাপরাধ ডেনেরিসকে আততায়ীর হাত থেকে পালিয়ে পালিয়ে বাঁচতে হয়েছে। একইভাবে সার্সেইয়ের মেয়ে হবার কারণেই মারসেলা ল্যানিস্টারকে ইলারিয়া ও তার মেয়েরা বিষ খাইয়ে মেরেছিল। নিরাপরাধ শিশুরাও এই যুদ্ধে নিরাপদ নয়। এখন সেই হত্যার শাস্তি একইভাবে মায়ের সামনে মেয়েকে একই বিষ খাইয়ে মেরেছে সার্সেই। যদিও এই শাস্তির তীব্রতা আরো বেশি। সার্সেইকে মারসেলার মৃত্যু নিজের চোখে দেখতে হয় নি। সে দুর্ভাগ্য জেইমির কপালে জুটেছিল। কিন্তু এখন শাস্তিস্বরূপ ইলারিয়া তার চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যু দেখবে। তারপর সে মৃতদেহ তিলে তিলে পঁচে গলে মাটিতে মিশে হাড়গোড়ে রূপ নিবে তার সামনেই। একজন মায়ের জন্য এর চেয়ে দুঃসহ শাস্তি আর কিছুই হতে পারে না। এখানে এটাও বলে রাখা দরকার যে ইলারিয়া স্যান্ডের চরিত্রে ইন্দিরা ভার্মাও শুধুমাত্র মুখের অভিব্যক্তি দিয়ে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। সার্সেইয়ের হিংস্রতার আরেকটি উদাহরণ পর্বের একদম শেষ দৃশ্যে জেইমির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। লেডি ওলেনা টাইরেলকে কীভাবে মারবে তার পন্থা হিসেবে সার্সেইয়ের মাথায় নিষ্ঠুরতম উপায়গুলোই এসেছিল। আর আসবে না-ইবা কেন? প্রতি নির্ঘুম রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে কেউ যদি নিজ শত্রুদের হত্যার উপায় নিয়ে চিন্তা করতে থাকে তাহলে অচিরেই নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুরতম উপায় মাথায় আসবে। সার্সেইয়ের এই শত্রু জপে রাত কাটানোর সাথে আরিয়ার নামের তালিকা জপার মিল আছে। তার তালিকায় সার্সেইও আছে।

সার্সেইয়ের এর পরের দৃশ্যটি ছিল আয়রন ব্যাঙ্কের টাইকো নেস্টোরিসের সাথে। ব্র্যাভোসের আয়রন ব্যাঙ্কের মুখপাত্র হয়ে টাইকো এসেছে সিংহাসনের ঋণ সংগ্রহ করতে। মূলত রবার্ট ব্যারাথিয়নের আমলে যথেচ্ছা অপচয়ের কারণে এই ব্যাঙ্কের কাছে প্রচুর ঋণ হয়ে গেছে। রবার্টের পরে জফ্রির আমলে পাঁচ রাজার যুদ্ধেও ক্ষয়ক্ষতি আর অর্থনাশের কমতি হয় নি। পুরোটা সময় লিটলফিঙ্গার ছিল রাজকোষের ‘মাস্টার অফ কয়েন’-এর দায়িত্বে। মাঝে কিছুদিনের জন্যে টিরিয়ন এই দায়িত্ব পেয়েছিল, তখন সেও রাজার ঋণের পরিমাণ দেখে রীতিমত বিস্মিত হয়েছিল। এতদিন পরে যুদ্ধ থেমেছে, তাই ‘ঋণপাপী’র খেলাপী ঋণ সংগ্রহ করতে টাইকো এসে হাজির। এখানে লক্ষণীয় ছিল সার্সেইকে ঋণের ব্যাপারে বারবার চেপে ধরতে চেয়েছে টাইকো, কিন্তু সার্সেই প্রতিবারই কথা ঘুরিয়ে টাইকোর দিকেই প্রশ্নের তীর তাক করেছে। যুদ্ধবিগ্রহে আয়রন ব্যাঙ্কের বড়ই আগ্রহ। এক বা একাধিক পক্ষকে ঋণ দিয়ে পরে সুদসহ মূলধন তুলে আনা যায়। রাজা-রাজড়াদেরও উপায় থাকে না ঋণ নিয়ে। সার্সেই তবু মাথা নিচু করে মিনমিন করেনি। বরং শক্ত গলায় জবাব দিয়েছে যে এক পক্ষকালের মধ্যেই ব্যাঙ্কের সমস্ত ঋণ শোধ করে দিবে।

উইন্টারফেল

এদিকে লিটলফিঙ্গার উইন্টারফেলে সানসার চারপাশে সিন্দাবাদের ভূতের মতো ঘুরঘুর করছে। জন ড্রাগনস্টোনে যাওয়ার সময় উইন্টারফেল তথা পুরো নর্থের দায়িত্ব সানসাকে দিয়ে গেছে। আগের দুই পর্বের রিভিউতে বলেছিলাম, সানসার রাজনৈতিক নেতৃত্বদানের বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা যথেষ্ট পরিমাণেই আছে। সেটার কিছু নিদর্শন এসময় দেখা গেল। সামনে দুরূহ শীতের সময় আসছে। সানসা তাই খাদ্যভাণ্ডারের হিসাব নিচ্ছিলো। কিছুদিন পর যদি যুদ্ধ শুরু হয় তখন আশেপাশের সকল নর্থ ব্যানারম্যানরা তাদের প্রজাদের নিয়ে উইন্টারফেলের অন্দরে আশ্রয় নিবে। তখন বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করতে এখনই চারপাশের লর্ডদের থেকে শস্য নেয়ার আদেশ দিল সানসা। এক ফাঁকে লিটলফিঙ্গার প্রশংসাই করলো, “Command suits you.” সানসা যদিও তার মেকি সৌজন্যতায় ভোলবার পাত্রী নয়। লিটলফিঙ্গার একবার ভুলিয়ে ভালিয়ে তাকে র‍্যামসে বোল্টনের সাথে বিয়ে দিয়েছিল। সে নির্যাতনের কথা সে ভুলতে পারে না। সে কথা এখানেও উঠে এল ব্র্যানের মাধ্যমে। এতদিন বাদে ব্র্যানের সাথে সানসার দেখা হবার দৃশ্যটি মন দ্রবীভূত করার মতো। অবশেষে ব্র্যান ওয়াল থেকে উইন্টারফেলে এসে পৌঁছে গেছে। সানসার জন্য এটা যতটা আবেগময় পরিস্থিতি ছিল, ব্র্যানকে দেখে মনে হচ্ছিল সে ততটাই ঘোরের মধ্যে আছে। সানসার সাথে তার আলাপের সময় মনে হচ্ছিল সে অন্য কিছু দেখছে বা ভাবনায় ডুবে আছে।

“Everything that’s ever happened to everyone. Everything that’s happening right now. It’s all pieces now, fragments.”

ব্র্যান এখন থ্রি-আইড-রেইভেন। ওয়াল থেকে অনেক উত্তরে থ্রি-আইড-রেইভেনের গুহায় গিয়ে ব্র্যান প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। কিন্তু সে শিক্ষা শেষ হওয়ার আগেই সেখানে নাইট কিং আক্রমণ করে। মিরা ব্র্যানকে নিয়ে কোনোমতে সে গুহা থেকে পালায়, আর তাদেরকে পালানোর সুযোগ করে দিতে থ্রি-আইড-রেইভেন আর হোডর মারা যায়। তাই এখন ব্র্যানই একমাত্র থ্রি-আইড-রেইভেন – ত্রিকালদর্শী কাকভুষুণ্ডি। জর্জ আর. আর. মার্টিনের লেখার সাথে পরিচিত পাঠকেরা জানেন যে তিনি ফ্যান্টাসি উপন্যাসের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক কল্পগল্পেরও অনবদ্য রচয়িতা। তার বেশিরভাগ ফ্যান্টাসি বইয়েও সাই-ফাই উপাদান ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। ‘এ সং অফ আইস অ্যান্ড ফায়ার’ উপন্যাসে যেমন ড্রাগন আর হোয়াইট ওয়াকার আছে, তেমনি সাই-ফাই গল্পের পুঞ্জীভূত মনের প্রাণীর আদলে ওয়্যারউড ট্রি-এর এক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক আছে। এর বিশেষত্ব হলো শ্বেতশুভ্র ডালপালা আর রক্তলাল পাতার ওয়্যারউড গাছগুলোর গায়ে মানূষের মুখের আদলে কাটা থাকে। এক সময় যখন মানুষেরা আসেনি, তখন পুরো ওয়েস্টেরোস জুড়েই ওয়্যারউড ট্রি-এর ছড়াছড়ি ছিল। হাজার হাজার বছর আগে যখন ফার্স্ট মেন আর অ্যান্ডালরা ওয়েস্টেরোসে আসে তখন চিলড্রেন অফ দ্যা ফরেস্টদের সাথে যুদ্ধের সময় অনেক গাছ কেটে ফেলে দেয়। তারপরেও নর্থসহ বেশ অনেকটা অঞ্চল জুড়ে এই গাছগুলো টিকে আছে। ব্র্যান যখনই এই গাছের শরীর স্পর্শ করে তখনই এই বিশাল বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মধ্যে ঢুকে যেতে থাকে। গাছের গায়ে আঁকা চোখ দিয়ে সব সময়ের সব তথ্য দেখা হয়, ব্র্যান সেগুলোই ছাড়াছাড়াভাবে দেখতে পায়। অতীত ও বর্তমানের সব দৃশ্য যদি মাথার ভেতরে চলতে থাকে তাহলে বোনের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা যায় না। ব্র্যানই এখন সানসার বিয়ের দিনের কথা বললো, যেন সে ওখানেই ছিল। ব্র্যান এই পুরো গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘুঁটি হতে যাচ্ছে। থ্রি-আইড-রেইভেনের ক্ষমতার খুব অল্পই আমরা দেখতে পেরেছি, ব্র্যানও তার পুরোটা রপ্ত করতে পারে নি। সত্যিকারের ত্রিকালদর্শনের অভিজ্ঞতা সামনের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্র্যান যে বললো তার জনের সাথে কথা বলা দরকার – আসলেই দরকার। জনের ভেতর একইসাথে টারগারিয়েন তথা ভ্যালিরিয়ার ড্রাগন-রক্ত আর ফার্স্ট মেনদের আদিম রক্তের মিশ্রণ আছে। এখন শুধু ব্র্যানই জনের আসল পরিচয় জানে। এই সত্য প্রকাশিত হলে কী কী হতে পারে তা চিন্তারও বাইরে।

ব্র্যান আসার ঠিক আগে আগে লিটলফিঙ্গার যে কথা বলছিল, ব্র্যান যেন সে কথারই অনুসরণ করছে।

“Every possible series of events is happening all at once. Live that way and nothing will surprise you. Everything that happens will be something that you’ve seen before.”

“Every possible series of events is happening all at once. Live that way and nothing will surprise you. Everything that happens will be something that you’ve seen before.”

ব্র্যানের অভিব্যক্তি হয়তো এজন্যেই ভাবলেশহীন। সেও জনের মতো (বা তারচেয়েও বেশি) চারপাশের চিরাচরিত ছোটখাট ঘটনায় আর বিচলিত হয় না। তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আরো বিশাল, আরো ব্যাপক।

ওল্ডটাউন

অবশেষে ওল্ডটাউনের বিবমিষা-উদ্রেককারী ঘটনাবলীর মাঝে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেল। স্যার জোরাহ গ্রেস্কেল রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে। স্যামের কষ্টকর চিকিৎসা পদ্ধতি হাজার হলেও কাজ করেছে। আর্চমেয়স্টার জোরাহ’র ত্বক পরীক্ষার পর তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে নিশ্চিত করলেন। এবারে নিশ্চয়ই সে ড্রাগনস্টোনের দিকে রওনা দিবে। যেভাবে ডেনেরিসের বাহিনী মার খাচ্ছে তাতে জোরাহ’র পরামর্শ তার অনেক কাজে লাগবে। স্যামের সাথে তার বিদায়টাও মনোগ্রাহী হয়ে রইল।

ক্যাস্টারলি রক/হাইগার্ডেন

এর পরের অংশটুকু যুদ্ধ কৌশল আর গেম অফ থ্রোনসের চিরচেনা চমকের দুর্দান্ত একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমরা এতদিন টিরিয়নের পরিকল্পনা শুনে এসেছি। ইউরন গ্রেজয় ইলারিয়া আর টাইয়িন স্যান্ডকে ধরে আনার পর স্বভাবতই টিরিয়নের মূল ভরসা আনসালি’ডরা, যারা নৌপথে ক্যাস্টারলি রকে আঘাত হানতে যাচ্ছে। টিরিয়ন আশা করছিল সেখানে ল্যানিস্টারদের বিশাল সৈন্যবাহিনী আনসালি’ডদের জন্য প্রস্তুত থাকবে। কারণ বন্দীদের নির্যাতন করে তাদের পরিকল্পনা ফাঁস হওয়া নিছকই সময়ের ব্যাপার ছিল। টিরিয়নের পরিকল্পনা মোতাবেক আনসালি’ডদের ছোট একটি দল সমুদ্রের ধার ঘেঁষে লুকানো পয়ঃসুড়ঙ্গপথে প্রাসাদে ঢুকে যায়। তারপর ভেতর থেকে মূল ফটক খুলে দিলে পুরো বাহিনী প্রাসাদে ঢুকে পড়ে। তাদেরকে অবাক করে দিয়ে দেখা গেল প্রাসাদে ল্যানিস্টারদের অল্প কিছু সৈন্য পাহারা দিচ্ছে। বাকি বাহিনী তাহলে কোথায়? চিত্রনাট্যের এক অসামান্য মারপ্যাঁচে দেখা গেল বাকি বাহিনী নিয়ে জেইমি ল্যানিস্টার হাইগার্ডেনে আক্রমণ করেছে। হাইগার্ডেন রিচ রাজ্যের লর্ড টাইরেলদের প্রাসাদ। ওলেনা টাইরেলও টিরিয়নের মত আশা করেছিলেন যে তিনি নিরাপদেই থাকবেন। কিন্তু জেইমি ও সার্সেই তাকে আবারও চমকে দিয়ে এক ধাক্কায় ডেনেরিসের শেষ ওয়েস্টেরোসীয় ‘বন্ধু’ হাউজ ও তার প্রকাণ্ড সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দিল। প্রায় বিনাবাধায় ল্যানিস্টাররা স্যামওয়েল টার্লির বাবা র‍্যানডিল টার্লির সহায়তা নিয়ে প্রাসাদে ঢুকে পড়ল। র‍্যানডিল শেষমেশ বিশ্বাসঘাতকতাই করল!

ওলেনা তার প্রাসাদের চূড়ার কাছাকাছি কক্ষে বসে ছিলেন। জেইমির সাথে তার কথোপকথনটাও মনে রাখার মতো। সার্সেই আর ওলেনা একে অপরের প্রতি প্রতিহিংসা থেকে প্রাচীন দুই হাউজকে নির্বংশ করে দিল। ওলেনাকে বলা হতো কুইন অফ থোর্নস বা কণ্টকরাণী। সার্সেইয়ের নাম তাহলে কী হবে? কুইন অফ অ্যাশেজ, ভস্মরাণী? জেইমি ওলেনার গ্লাসে বিষ ঢেলে পান করতে বললো। জেইমির ‘ছেলে’ ও রাজা জফ্রিকে একইভাবে গ্লাসে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে ওলেনাই মেরেছিল। গেম অফ থ্রোনসে প্রায় সব ‘খুনী’ই তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ খুনের পদ্ধতিতেই মারা যাচ্ছে। ওয়াল্ডার ফ্রে খুন হয়েছে কেইটলিন স্টার্কের মতো গলা কাটার মাধ্যমে, রুস বোল্টন আর টাইউইন ল্যানিস্টার মারা গেছে রব স্টার্কের মতো ছুরি আর তীরবিদ্ধ হয়ে, ওলেনাও তেমনি মারা গেলেন বিষপানে। তবে ধারালো বুদ্ধি আর জিহ্বার অধিকারী কণ্টকরাণী মারা যাবার আগে জেইমিকে সে সত্যটি প্রকাশ করে গেলেন। সার্সেইয়ের শুনলে এখন কেমন লাগবে? নিজের সন্তানের আসল খুনীকে হাতে পেয়েও অপেক্ষাকৃত কষ্টহীন মৃত্যু ‘উপহার’ দিল সেই সার্সেই যে নিষ্ঠুরতম অত্যাচার করে তার শত্রুদের মারতে চায়! একইসাথে ওলেনার স্বীকারোক্তি সার্সেই আর জেইমির কাছে প্রমাণ করে দিল যে টিরিয়ন আসলেই নিরাপরাধ ছিল। সার্সেইয়ের এতে ভাবান্তর না হলেও আশা করা যায় জেইমি অন্তত নিজের ভাইয়ের ওপর থেকে সকল প্রকার অভিযোগ তুলে নিবে।

“Tell Cersei. I want her to know it was me.”

সিজনের শুরুতে প্রবল পরাক্রমশালী ডেনেরিস এখন ডোথরাকি আর তিনটি ড্রাগন ছাড়া বাকি সব শক্তি হারিয়ে বসেছে। আর শুরুতে শত্রু-পরিবেষ্টিত সার্সেই তুখোড় কৌশলে ডেনেরিসকে দুর্বল করে দেয়ার পাশাপাশি রিচ রাজ্যের অঢেল সম্পত্তির কোষাগার বাজেয়াপ্ত করতে পেরেছে। আয়রন ব্যাঙ্কের ঋণ মিটিয়েও যুদ্ধের খরচ নিয়েও তাদের আর ভাবতে হবে না। অন্যদিকে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়ে ডেনেরিসের এখন জনের সাথে সমঝোতায় আসতেই হবে। সব মিলিয়ে এই পর্বটি অভিনয়, পরিচালনা, চিত্রনাট্য, সঙ্গীত, চিত্রগ্রহণ – মোটকথা সব দিক দিয়ে অন্যতম সেরা পর্বগুলোর একটি হবার দাবি রাখে।

Anik Andalib

Teacher by profession. Writer by passion. Loves to read and write about science, literature, films, and TV shows.

FOLLOW US ON

ICE Today, a premier English lifestyle magazine, is devoted to being the best in terms of information,communication, and entertainment (ICE).