রঙিন ঝকমকে কস্টিউম বা অলৌকিক অতিমানবীয় ক্ষমতা- নানা কারণেই সুপারহিরোরা আমাদের অনেক পছন্দের। সুপারহিরোরা মুখোশ-কেইপ চাপিয়ে দুষ্টলোকদের শায়েস্তা করলেও এর বাইরেও তাদের একটা সাধারণ মানুষের মতো জীবন থাকে। আর সেই জীবনে কোন সুপারহিরোর সম্পদ কতো সেই আলোচনা কিন্তু নেহায়েত নতুন নয়। সবচাইতে ধনী সুপারহিরোদের নিয়ে কম তালিকা হয়নি। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সবচাইতে দরিদ্র সুপারহিরো কে? এই লেখায় চলুন খুঁজে বের করা যাক সবচেয়ে দরিদ্র সুপারহিরোকে!

সুপারহিরোর অবশ্য কোন শেষ নেই। ডিসি কমিকস-মার্ভেল কমিকস মিলিয়ে রয়েছে হাজার হাজার। কিন্তু কমিকবুক, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র মাধ্যমে সবসময়ের সবচাইতে বেশি লাভের মুখ দেখা জনপ্রিয় একক সুপারহিরোরা হলেন- সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা ও আয়রনম্যান। মুখোশ আর পোশাক সরিয়ে ফেললে নিত্যজীবনে এদের মধ্যে কাকে দুমুঠো ভাতের জন্য সবচে বেশি কষ্ট করতে হয়?

ব্রুস ওয়েইন ওরফে ব্যাটম্যান আর টনি স্টার্ক ওরফে আয়রনম্যান শুরুতেই বাদ পড়বেন এই তালিকা থেকে। দু’জনই মার্ভেল-ডিসি মিলিয়ে যেকোনো কমিক বুক ইউনিভার্সের সবচাইতে সম্পদশালী সুপারহিরোদের তালিকার সবচেয়ে উপরে থাকবেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা এক হিসেবে ব্রুস ওয়েইনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ধারণা করা হয়েছিলো ৯.২ বিলিয়ন ডলার। যদিও অন্য অনেক গবেষক এবং কমিক বুক ফ্যানেদের মতে পরিমাণটা আরো বেশি হওয়া উচিত। মুখোশটা নামিয়ে রাখার পর তাই দ্যা ডার্ক নাইটের অন্তত আর যাই হোক- থাকা-খাওয়া-পরা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। টনি স্টার্কও বিষয়সম্পতির দিক থেকে কম যান না। ফোর্বসের হিসাবে স্টার্ক এন্টারপ্রাইজের মোট আয় ওয়েইন এন্টারপ্রাইজ থেকে কম হলেও টনি স্টার্কের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ১২.৪ বিলিয়ন ডলার- যা ব্রুস ওয়েইনের থেকে বেশি।

দেশপ্রেমিক ক্যাপ্টেন আমেরিকা আদতে সরকারি চাকুরে। তবে টাইম ম্যাগাজিনের হিসাব মতে, ক্যাপ্টেন চালান সাড়ে সাত হাজার ডলারের হারলে ডেভিডসন, এবং তার ঢাল তৈরির খরচই ৫৪ মিলিয়ন ডলার। স্টিভ রজারসকে ক্যাপ্টেন আমেরিকা বানাতে যে টাকা খরচ হয়েছে সেই হিসাবে আর না গেলেও চলে। একজন রেডিট ব্যবহারকারী হিমনিদ্রায় যাওয়ার আগের ক্যাপ্টেন আমেরিকার বেতনের পরিমাণ আর ইনফ্লেশনের হিসাব নিকাশ কষে দেখিয়েছেন ক্যাপ্টেন আমেরিকা ২০১১তে জেগে ওঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেভিংস বন্ডস থেকে তার পাওনা ছিল ৮.৬৩ মিলিয়ন ডলার।

যে ভদ্রলোক হাতের মুঠোর চাপে কয়লাকে হীরা বানিয়ে ফেলতে পারেন, তার সম্পদের হিসাব আসলে না করলেও চলে! সুপারম্যানের রয়েছে ফোর্ট্রেস অব সলিটিউড। সাংবাদিক ক্লার্ক কেন্ট হিসেবে আয় আর স্মলভিলের কেন্ট ফার্মের আয় হিসেব করে দ্যাবিটব্যাগ নামের এক ওয়েবসাইট হিসেব কষে দেখিয়েছে, সুপারম্যানরূপী কাল-এলের সম্পদের পরিমাণ ৭২.১ বিলিয়ন ডলার। তবে সত্যি বলতে এতো কিছু না হলেও তার চলতো। সূর্য থেকে শক্তি নেওয়া সুপারম্যানের চিবিয়ে-গিলে পৃথিবীর খাবার না খেলেও যেহেতু চলে!

কিন্তু বেঁচে থাকতে হলে যাকে বাড়ি ভাড়া দিয়ে, দুপুরে-রাতে খেয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জমা দিয়ে জীবন চালাতে হয়- তিনি আর কেউ নন, পিটার পার্কার ওরফে স্পাইডারম্যান। ২০০৪ সালের স্পাইডার ম্যান ২ ছবির শুরুতেও দেখা যায় কিভাবে স্পাইডারম্যানকে একই সাথে পিৎজা ডেলিভারি আর ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফারের কাজ করতে হয়। পিটার পার্কারের জন্য পৃথিবী বা পৃথিবীর বাইরের কেউ কোথাও অঢেল সম্পত্তি রেখে যায়নি। একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হিসেবে বেশি হলে সে বছরে ৪১,০০০ ডলার আয় করে। পরবর্তীতে হাই স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক হলেও তার উপার্জন বেশি হলে ৫৫,০০০ ডলার হবে প্রতিবছরে। বেশ বয়স হয়ে যাওয়া আন্ট মের দেখভালের দায়িত্বও তার কাঁধেই। ট্রাম্পের মেডিকেল কেয়ারের যুগে পিটারের কি অবস্থা হবে তা খোদাই জানেন! ভাঙ্গাচোরা ঘরবাড়িতে থাকা পিৎজা ডেলিভারি করা স্পাইডারম্যান কমিকে এবং চলচ্চিত্রে পৃথিবীর সবচাইতে বেশি ব্যবসাসফল পাঁচটি চরিত্রের একটি হলেও, দিনশেষে নিজের তোলা ফটোগ্রাফ বিক্রি করেই পেট চালাতে হয়। আর তাই মধ্যবিত্ত মূল্যবোধও বোধ হয় স্পাইডারম্যানের মধ্যে বেশি কাজ করে। সবচাইতে জনপ্রিয় একক সুপারহিরোদের মধ্যে জীবনযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করা সুপারহিরোর জীবনের মূলমন্ত্র তাই আংকেল বেনের অমর উক্তি-‘উইথ গ্রেট পাওয়ার, কামস গ্রেট রেসপন্সিবিলিটি’।
