আকিব মো. সাতিল

১২ এপ্রিল সকাল আটটায় তৈরি তালিকা অনুসারে ঢাকা মহানগরীতে সর্বোচ্চ ৩১৩ জন করোনাভাইরাস রোগী ধরা পড়েছে যা বাংলাদেশের মোট করোনাভাইরাস রোগীর অর্ধেকের কিছু বেশি। ঢাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে এমন বেশ অনেকগুলো এলাকা সম্পূর্ণ ‘লকডাউন’ করে দেয়া হয়েছে। জেনে নেয়া যাক ঢাকা মহানগরীর কোন এলাকাগুলোতে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।

টোলারবাগ

ঢাকার মিরপুরের টোলারবাগ এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২১ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন সাবেক একজন শিক্ষক। মৃত্যুর আগে তিনি বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন বলে জানা যায়। তখন থেকেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হতে শুরু করে টোলারবাগ এলাকা। এরপর বাড়তেই থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। গত সাত এপ্রিল টোলারবাগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সাত। পাঁচ দিনের মাথায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ঊনিশে। ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস রোগী টোলারবাগেই।

উত্তরা

সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুসারে উত্তরাতে ঢাকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। অথচ এপ্রিলের সাত তারিখ পর্যন্ত উত্তরাতে মাত্র তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে উত্তরায় রোগীর সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ বেড়ে হয়েছে সতেরজন। ঢাকার মূল শহর এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে থাকা এই এলাকায় হঠাৎ এত করোনাভাইরাস রোগীর সংক্রমণ এলাকাবাসীর কপালে ভাঁজের কারণ হয়েছে।

ওয়ারী

সপ্তাহখানেক আগে রাজধানীর বেশ পুরনো এলাকা হিসেবে পরিচিত ওয়ারীতে আটজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছিল। সপ্তাহ ঘুরতেই সংখ্যাটি এখন ষোল। ওয়ারীতে এত বেশি পরিমাণ সংক্রমণের কোন সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও যে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে বাংলাদেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণের এপিসেন্টার মনে করা হচ্ছে তা থেকে খুব বেশি দূরে নয় রাজধানীর এই এলাকাটি।

বাসাবো

ঢাকা শহরের মধ্যে করোনাভাইরাসের যে দুইটি ক্লাস্টার তথা কম দূরত্বে বেশি রোগী পাওয়ার কথা জানিয়েছিল রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, তার অন্যতম হচ্ছে বাসাবো এলাকা। ঢাকার জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত বাসাবোতে করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা এখন বারো। তবে আশার কথা বাসাবোতে গত ৪৮ ঘন্টায় কোন নতুন রোগী শনাক্ত হননি।

পুরান ঢাকা

লালবাগ থেকে সূত্রাপুর, সাথে বংশাল, লক্ষ্মীবাজার, চক বাজার, উর্দু রোড, শোয়ারি ঘাট, বাবু বাজার, বাংলা বাজার- এই নিয়ে অবস্থান ঐতিহ্যবাহী এলাকা পুরান ঢাকার। তবে করোনাভাইরাসের কাছে হার মেনেছে এই ঐতিহ্যবাহী এলাকাটিও। পুরান ঢাকা এলাকা থেকে প্রায় চল্লিশ জনের মত করোনাভাইরাস রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ তের জন লালবাগ এলাকায়, বংশালে সাত জন, বাবু বাজার ও শোয়ারী ঘাটে তিন জন করে, এছাড়া অন্যান্য এলাকাগুলোতেও এক বা একাধিক রোগী পাওয়া গেছে।