কে ‘স্লো’? সাবান নাকি আমরা?

মাসিক বাজারের লিস্টি এখন নানা পণ্যের তালিকায় ভর্তি। ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার পাশাপাশি টয়লেটকে শুধু ঝা চকচকে করতেই এসেছে-আসছে নানা নতুন পণ্য। সচেতনতার পাশাপাশি বেড়েছে এসব জীবাণু থেকে মুক্তিদাতা পণ্যের বিজ্ঞাপনওকিন্তু সবকিছুর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে দূষণ, সাথে জীবাণুও

তাইতো আধুনিক ঝা-চকচকে টয়লেটেও ভেসে বেড়ায় নানা নতুন ধরনের জীবাণু এজন্যই বিশ্বব্যাপী স্যানিটেশন সঙ্কট মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশ্ব টয়লেট দিবস পালিত হয় ১৯ নভেম্বর।

পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে ভয় পান?

ভয়টা অমূলক নয় পাবলিক ও প্রাইভেট যাই বলুন না কেন, টয়লেটগুলো তো অস্বাস্থ্যকর জীবাণুর ডিপো।

তারা থাকেন টয়লেটের আসন, তলা, সিংক, হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় এমনসব জায়গায়। ডোরনব, ফ্ল্যাশ হ্যান্ডেল, ট্যাপ হ্যান্ডেল, ড্রায়ার আর টয়লেট ফ্ল্যাশের এইসব জীবাণুবাবাজীরা এমনকি ৬ ফুট পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন, ঘন্টা দুই বাতাসে ভেসেও বেড়াতে পারেন!  যারা ছড়াতে পারে কৃমি থেকে হার্পিসের মতো বিশ্রী সব অসুখও।

খারাপ খবর অনেক হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শরীর সুস্থ রাখতে হাত ধোয়ার মতো সহজ স্বাস্থ্যকর উপায়েই অনেক সংক্রমণ রুখে দিতে পারেন আপনিটয়লেট সিটের তুলনায় স্পর্শের মাধ্যমে যে অনেক বেশি ক্ষতিকারক জীবাণু দ্বারা প্রতিদিন আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে! 

মোবাইল ফোন, রান্নাঘরের টিস্যু-স্পঞ্জ, কাটার বোর্ড কিংবা কার্পেটে কিন্ত টয়লেটের চেয়েও বেশি জীবাণুর বসবাসএমনকি একটি টয়লেট সিটের তুলনায় কীবোর্ড এবং অফিস ডেস্কগুলোতে ২০০ এবং ৪০০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়ার বসবাস

চলুন না, কদর্য টয়লেট জীবাণু আটকানোর সহজ কিছু টিপস জেনে নেই-

  • টয়লেটের দরজা খোলার সময় একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন।
  • টয়লেট সিট কভার ব্যবহার করুন (ফার্মেসিতে পাওয়া যায়), যদি টয়লেট পেপারের সাথে টয়লেট সিট পরিস্কার না থাকে।  
  • ফ্ল্যাশ বোতাম টেপার সময় টয়লেট পেপার ব্যবহার করুন।
  • টয়লেট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্ল্যাশ করে দ্রুত বাইরে যান।
  • টয়লেট ব্যবহার করার পরে আপনার হাত ধোয়া টিস্যু পেপার দিয়ে আপনার হাত শুকিয়ে নিন। 

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন মানুষ নিজ গৃহে টয়লেট ছাড়া এবং নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়াই বেঁচে আছে। খাদ্য, পানি বা বায়ু মানুষের ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য দূষণমুক্ত এবং রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুমুক্ত হওয়ার প্রয়াসেই ব্যস্ত হোক আগামী। সুতরাং, সাবান স্লো নাকি এমন ভাবার বদলে আসুন নিজেরা ফাস্ট হই। 

mm
Babry Fatema

Lecturer, Department of Biochemistry, Primeasia University