কোথায় আছে ইনফিনিটি স্টোন গুলো!!

মার্ভেল ইউনিভার্স এর মুভিগুলো দেখলেই খুব পরিচিত একটি ডায়লগ শুনতে পাবেন, “Before creation itself, there were six singularities. Then the universe exploded into existence, and the remnants of these systems were forged into concentrated ingots… Infinity Stones.” কি এই ইনফিনিটি স্টোন? আর কিই বা এদের কাজ বা ক্ষমতা! আসুন জেনে নেই।

ইনফিনিটি স্টোন হচ্ছে ছয়টি অত্যন্ত শক্তিশালী পাথর যা মহাজাগতিক বস্তু দ্বারা নির্মিত, প্রত্যেকটি পাথরে অনন্য ক্ষমতা রয়েছে। যাদের হাজার বছর ধরে বহু এলিয়েন সভ্যতা দ্বারা পরিবর্তিত এবং উন্নত করা হয়েছে। কমিক্সে এই পাথর গুলোর নাম ছিলো Soul Gem বা আত্মার পাথর, পরবর্ততে থানোস এর নাম দেয় Infinity Stone বা মহাজাগতিক পাথর। মাইন্ড, সোউল, পাওয়ার, স্পেস, টাইম, রিয়ালিটি নামের মোট ৬টি ইনফিনিটি স্টোন এর দেখা মিলবে মার্ভেল ইউনিভার্সে। টাইম স্টোন ছাড়া বাকি পাথরগুলো ভগ্ন অবস্থায় থাকে এবং মার্ভেল ইউনিভার্সের পুনর্গঠন ও সিক্রেট যুদ্ধ থামার পর এদের কে পুনরায় গঠন করা হয়। কেবল সেলেস্টিয়াস, ম্যালাকিথ নামক ডার্ক এলফ, রোনান নামক ক্রী, মানুষ-সেলেস্টিয়ালের মিশ্রণে গঠিত স্টারলর্ড, থানোস এরা গুটি কয়েক মহাক্ষমতাধর চরিত্র এই পাথর ধরার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া মানুষ বা ইউনিভার্সের অন্য সাধারণ প্রানী এগুলো ধরার সাথে সাথেই এগুলোর শক্তি সহ্য করতে না পেরে ধ্বংস হয়ে যায়।

স্পেস স্টোন- এর দেখা মেলে ক্যাপ্টেন আমেরিকাতে, যার রঙ হচ্ছে নীল। এটি টেসারেক্ট নামক কিউবের ভেতর সংরক্ষিত আছে। এটি মহাশূন্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এবং এটি ব্যবহার করে মুহুর্তেই মহাবিশ্বের একস্থান থেকে অন্যজায়গায় যাওয়ার জন্য পোর্টাল তৈরি করা যায়। এটি মহাজাগতিক বিষয় থেকে সর্বপ্রথম ওডিনের কাছে যায়। এবং পরবর্তিতে পৃথিবীর মানুষের হাতেও আসে। মার্ভেলের সিনেমা অনুযায়ী এখন এটি লোকির কাছে রয়েছে।

টেসারেক্টের ভেতর স্পেস স্টোন

মাইন্ড স্টোন- এভেঞ্জার মুভিতে পরিচয় পাওয়া এই পাথরের রঙ হলুদ। যা লোকির স্পেক্টারের ভেতর থাকে। এটি মহাজাগতিক থেকে সর্বপ্রথম পায় থানোস। থানোস এটি লোকিকে দেয় পৃথিবীতে আক্রমন করার সময়। লোকি হারার পর এটি শিল্ড এর কাছ থেকে হাইড্রা নিয়ে নেয় এবং মানুষের সুপার পাওয়ার তৈরির জন্য পরীক্ষা চালায়। সেখান থেকে এটি নেয় আল্ট্রন। এবং সর্বশেষ অবস্থান করছে ভিশন এর মাথায়। মাইন্ডস্টোন এর ব্যবহারকারীদের মানসিক ক্ষমতা বাড়ায়, অন্যের মনকে নিয়ন্ত্রন করে, বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করায়, তাদের চেতনায় ব্যবহারকারীর একাধিক অস্তিত্বের মত বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

ভিশনের মাথায় মাইন্ড স্টোন

রিয়ালিটি স্টোন- লাল রঙের এই পাথর ইথারের ভেতর রয়েছে। ইথার হচ্ছে ডার্ক লাল রঙের তরল। যা জীবন্ত প্রানীর দেহে মিশে যেতে পারে। যা ব্যবহারকারীকে দেয় রিয়ালিটি বদলে ফেলার ক্ষমতা। তাকে অসীম ক্ষমতা দেয়া, অবিনশ্বর করা, ইউনিভার্সের উপর ক্ষমতা পাওয়া ইত্যাদি প্রদান করে। মেলাকিথ এটি ব্যবহার করে সবকটি রেল্ম আধারে ঢেকে ফেলতে চেয়েছিলো। কিন্তু থর ও জেন এর প্রচেস্টায় এই শক্তিকে পুরোপুরি ব্যবহার করা যায় নি।

ইথারে দ্রবীভুত রিয়ালিটি স্টোন

পাওয়ার স্টোন- বেগুনি রঙের এই পাথর হল শক্তির এক বিশাল উৎস। এটি ব্যবহারকারীর শক্তি অনেক গুনে বাড়িয়ে দেয় এবং এর পুনর্ব্যবহার চোখের পলকে একটি গ্রহ ধ্বংস করে দিতে পারে। থানোস এটি নেয়ার জন্য রোনিনকে পাঠায় যা স্টারলর্ড সংগ্রহ করে এনেছিলো। পরবর্তিতে রোনিনকে হারিয়ে স্টারলর্ড এটিকে নোভাকর্প নামক গ্রহবাসীর জিম্মায় দিয়ে দেয়। যা বর্তমানে নোভাকর্পের রাজধানী জেন্ডারে আছে।

পাওয়ার স্টোন

টাইম স্টোন- সবুজ রঙের এই পাথরের দেখা মেলে ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ছবিতে। যা “দি আই অফ আগামটো” নামক একটি আর্টিফেক্টের ভেতর রয়েছে। এটির ব্যাবহার করে সময়কে থামানো, টাইম লুপ তৈরি, সময়কে পেছনে ফিরিয়ে নেয়া, সামনে নেয়া, বিশেষ কারো জন্য সময় আটকে দেয়া ইত্যাদি বড় বা ছোট যেকোন প্রেক্ষাপটে যেভাবে খুশি সময়কে নিয়ন্ত্রন করা যায়। এটি কারমা-তাজ এ অগুনিত সময় ধরে সংরক্ষিত ছিল। এবং ডক্টন স্টিফেন স্ট্রেঞ্জ তা নিয়ে ডরমামুকে থামানোর জন্য ব্যবহার করে। এটি বর্তমানে নিউইয়র্ক সেঙ্কটামে রয়েছে।

ডক্টর স্ট্রেঞ্জের গলায় ঝোলানো টাইম স্টোন

সোল স্টোন- কমলা রঙের এই পাথরের পরিচয়, অবস্থান, ক্ষমতা, মালিক কিছুই এখনো জানা যায় নি। আশা করা যায় খুব শিঘ্রই মার্ভেলের কোন ছবিতে এর দেখাও মিলবে।

এই ইনফিনিটি পাথর গুলোতে এত ক্ষমতা বিদ্যমান যে ইউনিভার্সের কেউই এদের ধ্বংস করতে পারবে না। এমনকি এদের প্রভাব থেকে বাঁচতে পারবে না। আর Infinity Gauntlet নামক গ্লাভস ছাড়া এদেরকে এক সাথে রাখা ও ব্যবহার করা সম্ভবও না। আর এই গ্লাভসে পাথরগুলো লাগানোর মিশনে নামছে মার্ভেলের সুপারভিলেন থানোস। দেখা যাক তাকে রুখতে পারে কিনা অ্যাভেঞ্জার টিম!

mm
Ahmed Jamil Sium

Currently studying in Department of Anthropology, University of Dhaka. Also involved as an executive committee member at Dhaka University Film Society. Interested in culture, music, and social dynamics.