কেনো দেখবেন স্পাইডারম্যান হোমকামিং (স্পয়লার ফ্রি)

সুপারহিরো মুভির খোঁজখবর রাখেন? তাহলে স্পাইডারম্যান-এর মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে ঢুকে পড়ার খবরে নিশ্চয়ই একটু নড়েচড়ে বসেছিলেন। স্পাইডারম্যান এমন এক বান্দা, একে এমনিতেও ইগনোর করে যাওয়া ইম্পসিবল। এবার অবশ্য স্পাইডারম্যান হোমকামিং-এর মার্কেটিংয়ের পেছনে মার্ভেল যেভাবে দেদারসে টাকা ঢেলেছে, চোখে পড়তেই হতো। ক’দিন আগেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডিসি-র ওয়ান্ডারওম্যান রিলিজ পেয়েছে। ব্যবসাও করেছে দুর্দান্ত। তাই বাজার ধরে রাখতে স্যোশ্যাল মিডিয়ায় চড়া হাইপ তৈরি করা ছাড়া উপায় ছিলো না। করেছেও তারা সেটা। সবমিলে আমরাও কিঞ্চিত এক্সাইটেড। অবশ্য স্পাইডারম্যান নিয়ে এক্সাইটমেন্টের কারণ অনেকেরই ব্যক্তিগত। নিজের পড়া প্রথম সুপারহিরো কমিকটা স্পাইডারম্যানেরই ছিলো কি না, তাই এই বাপ-মা মরা স্পাইডি কিডো পিটার পার্কারের প্রতি একটা সফট কর্নার অনেকেরই বিল্ট ইন। তা চরিত্রটা টবি ম্যাগুয়ের, অ্যান্ড্রু গার্ফিল্ড বা টম হলান্ড যে-ই করুক না কেনো। যাই হোক, চলুন দেখি কেন দেখা উচিৎ স্পাইডারম্যান হোমকামিং।

অপেক্ষাকৃত কম এক্সপেক্টেশন

ঝামেলাটা শুরু করেছিলেন নোলান সাহেব। ক্রিস্টোফার নোলান। ডার্ক নাইট ট্রিলজি-তে দুম করে সুপারহিরো মুভির স্ট্যান্ডার্ড আকাশে তুলে ফেলেছিলেন। সেই থেকে কয়েকদফা সুপারহিরো মুভি দেখতে দর্শক থিয়েটারে গিয়েছে চরম প্রত্যাশা নিয়ে। তারপর যা হওয়ার হয়েছে তা-ই। কিন্তু বারকয়েক পোড় খাওয়া দর্শকের এখন মাথা খুলেছে। তারা শুধু তিনটা জিনিসের প্রত্যাশা রেখেই হলে যান। এন্টারটেইনমেন্ট, এন্টারটেইনমেন্ট, আর এন্টারটেইনমেন্ট। ও হ্যাঁ, মোটামুটি মাত্রার একটা লজিকাল স্টোরিটেলিং তো প্রত্যাশিতই। ওটা বাদ দিলে বলতে হয়, প্রচুরমাত্রায় হাইপ তোলার পরও আশা করা যাচ্ছে স্পাইডারম্যান নিয়ে প্রত্যাশা কম রেখেই দর্শক থিয়েটারে যাবেন। আরেহ! পাঁচ ফুট আট ইঞ্চির মাত্র কুড়ি পেরোনো ছোকরার কাছে কতোটুকুই বা আশা করবেন বলুন? ওদিকে রটেন টমেটো বলছে, এই কম প্রত্যাশার কারণেই এন্টারটেইনমেন্ট হবে একদম ‘পয়সা উসুল’!

স্পাইডারম্যান হোমকামিংয়ের পোস্টার

নতুন স্টোরিলাইন

টবি ম্যাগুয়েরেরটার পর অ্যান্ড্রু গার্ফিল্ড ভার্শনটা আবার নতুন করে শুরু করতে হয়েছিলো। তাই অরিজিন স্টোরি ছিলো অলমোস্ট সেইম। ওই নতুন আবিষ্কৃত সুপারপাওয়ারের সাথে নিত্য চলাফেরা, তারপর হাইস্কুল বালকের রেগুলার লাইফস্টাইলের সাথে সুপারহিরোর চ্যালেঞ্জের সাথে ভারসাম্য তৈরির স্ট্রাগল। সাথে বাইরে গার্লফ্রেন্ড আর বাসায় আন্ট মে-কে সামলানো। স্পাইডারম্যান-এর এই রিবুটে ওসব পুরোনো কাহিনীর বালাই নেই। একদম ফ্রেশ নিউ স্টার্ট। পিটার-ও ওয়েল ফোকাসড। তার এবারের চ্যালেঞ্জ যেকোনোভাবে টনি স্টার্ককে খুশি করে অ্যাভেঞ্জার্স-এ নিজের জায়গা পোক্ত করা। পারবে তো পিটার পার্কার? কমন সেন্স বলে পারার কথা। দেখা যাক।

বেঁচে গেলেন আঙ্কল বেন

আর যেহেতু নতুন করে সাজানো হয়েছে গল্প, তাই এবার আর দর্শককে আঙ্কেল বেনের করুণ মৃত্যুদৃশ্য সহ্য করতে হবে না। হোপফুলি, এমন ট্রলও আর তৈরি হবে না।

নতুন কোন ট্রল তৈরি হচ্ছে না আঙ্কেল বেনকে নিয়ে

আন্ট মে!!

কে ভেবেছিলো স্পাইডারম্যান মুভির লাইমলাইটে আন্ট মে-ও থাকবে? একদম আউট অব নোহোয়্যার মার্ভেল যে খেলাটা খেলেছে তা পুরো ভেঙে না বললেও চলে। জোর গুঞ্জন আছে, মুভিতে আন্ট মে’র প্রতি আপাদমস্তক ফ্লার্টবাজ টনি স্টার্কের আচরণ নাকি বেশ সন্দেহজনক। ও মাই গড! পেপার পটসে’র কী হবে তাহলে?

বয়স কমছেতো কমছেই আন্ট মে’র

মাইকেল কিটন

ভদ্রলোক সেই নব্বই দশকের ‘ব্যাটম্যান’। মাঝখানে ইনারিতু’র সৌজন্যে তাঁকে ‘বার্ডম্যান’ হতেও দেখেছি। তবে এবার তিনি হাজির সুপারভিলেইন ‘ভালচার’ রূপে। ডার্ক নাইট রাইজেস-এ হার্ভি ডেন্টের মুখের বাণী এইভাবে সত্যি বলে প্রমাণিত হবে কে জানতো। শক্তিশালী এই অভিনেতা ভিলেইন চরিত্রে কেমন করেন সেটা দেখার একটা কৌতুহল তো থাকবেই।

হিরো থেকে ভিলেইন বনেছেন মাইকেল কিটন

আবার টনি স্টার্ক

আর কতো টনি স্টার্ক? আর কতো? নিজের মুভি আর অ্যাভেঞ্জার্স তো আছেই, ক্যাপ্টেন আমেরিকা কিংবা স্পাইডারম্যানের সলো মুভিতেও ঢুকে যাচ্ছেন নিয়মিত। এবার তো ক্ষান্ত দেন। যতো যাই বলুন, অনেক গ্যাঞ্জাম তার কারণে তৈরি হলেও টনি স্টার্ক এমন এক চরিত্র, যে না থাকলেও ঠিক জমে না। হোমকামিংয়েও টনি আছেন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। কী সেটা, তা দেখার জন্যে হলেও দেখতে হবে মুভিটি।

টনি স্টার্ক- কোথায় নেই তিনি!

এবং টম হলান্ড

সিভিল ওয়্যারে আয়রন ম্যান যখন ‘আন্ডাররুজ’ বলে ডাক দিলো, তারপর অ্যাভেঞ্জার্সে স্পাইডারম্যানের প্রথম স্ক্রিন অ্যাপেয়ারেন্সে দর্শকের সে কী হাততালি। টম তো তখনই স্পাইডি হিসেবে একসেপ্টেড। এরপর নিজের প্রথম সলো মুভিতে স্পাইডারম্যান চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তোলার জন্য অসম্ভব খেটেছে টম। প্রিমিয়ারে সমালোচকদের বলতে বাধ্য করেছে, ইয়েস, টম ইজ পারফেক্ট অ্যাজ আ স্পাইডারম্যান। সমালোচকদের কথায় কনভিন্সড না হলে এই ভিডিওটা দেখুন। দেখে বলুন, এই কিউট ছেলেটাকে ভালো না লেগে উপায় আছে?

লক্ষ্য একটাই যেনতেন প্রকারেণ টনির মনভোলানো

সবশেষে একটি বোনাস এবং খুবই যৌক্তিক কারণ

একেকটা স্পাইডারম্যান মুভি রিলিজ হয়, আর সামনে চলে আসে এই ভয়ঙ্কর ভিডিওটি। স্পাইডারম্যান ভক্ত কিংবা না-ভক্ত, সকলের জন্য শক্ত এক দুঃস্বপ্ন এই মিউজিক ভিডিও। স্পাইডারম্যান মানে যে অদ্ভুত সাজপোশাকের এই চরিত্রটি না, তা আবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই অন্তত দেখা উচিৎ স্পাইডারম্যান হোমকামিং।

mm
Arafat Ahmed

Statistics graduate and a business student who is now a full-time thinker, observer, daydreamer, procrastinator in advertising and part-time reader, writer and movie lover in life.

FOLLOW US ON

ICE Today, a premier English lifestyle magazine, is devoted to being the best in terms of information,communication, and entertainment (ICE).